প্রথম সংবাদ ডেস্ক :
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষি পণ্য আমদানি থেকে বেরিয়ে আসা হবে।
মন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহী অঞ্চলের রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আম, লিচুবাগান, আধুনিক পদ্ধতিতে আদা, গ্রীষ্মকালীন কাঁচামরিচ ও টমেটো চাষ উৎপাদন এলাকা এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সেচ প্রকল্প পরিদর্শনকালে কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে আমদানিনির্ভরতা থেকে রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। যে সকল কৃষি পণ্য আমদানি করা হয় সেগুলোর উৎপাদন বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে আমদানি থেকে বেরিয়ে আসা হবে।
মন্ত্রী বলেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের কৃষকরা অত্যন্ত পরিশ্রমী ও কৃষির প্রতি আন্তরিক। এ অঞ্চলে আম উৎপাদনের পাশাপাশি ধান ও সবজি চাষেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কৃষির সম্ভাবনা আরও কাজে লাগাতে আমবাগানের গাছের মধ্যবর্তী অব্যবহৃত জমিতে আদা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয়। আমবাগানের ফাঁকা জায়গায় আদা চাষ বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি কৃষকের অতিরিক্ত আয় হবে। এ জন্য মাটির উপযোগিতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহারের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে একটি বড় প্রকল্প ইতোমধ্যে তাঁর কাছে এসেছে। তিনি প্রকল্পটি অনুমোদনের পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান।
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে আম সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমের সংরক্ষণকাল বাড়ানো গেলে মৌসুমে দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া রোধ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকও উৎপাদিত আমের ন্যায্যমূল্য পাবেন।
পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আদা, রসুন ও বর্ষাকালীন টমেটোর উৎপাদন বাড়াতেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী মৌসুম থেকে বর্ষাকালীন টমেটো চাষ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষিপণ্য আমদানির পরিবর্তে বাংলাদেশকে কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।
এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএমডিএর প্রতিনিধি এবং কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।