মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি :
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বসতবাড়িতে ঢুকে নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটপাটেরও অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঝিনাইগাতী সি.আর আমলী আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী কান্দুলী গ্রামের মো. নূর জামাল অভিযোগ করেন, গত ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে আব্দুল আল মামুন বিপ্লব, ফারুক মিয়া,
মিশুক মিয়া ও পুলক মিয়া গংরা পূর্বশত্রুতার জের ধরে সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
বাদীর স্ত্রী মোছা. ময়না ও প্রতিবেশী মোছা. সুফিয়া বেগম গালিগালাজে বাধা দিলে আসামিদের একজনের নির্দেশে হত্যার উদ্দেশ্যে মোছা. ময়নাকে ধারালো রামদা দিয়ে কোপ মারার চেষ্টা করা হয়। কোপটি তার বাম চোখের ভ্রুর উপরে কপালে লাগলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় মোছা. ময়নার গলায় থাকা আনুমানিক দুই লাখ টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়। অপরদিকে মোছা. সুফিয়া বেগমকে রড দিয়ে আঘাত করলে তার ডান হাতের কব্জি ভেঙে যায়। এছাড়া রাসেল মিয়া নামের অপর এক ব্যক্তি বাশের লাঠির আঘাতে আহত হন।
বাদীর অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার একপর্যায়ে আসামিদের একজন ঘরের ভেতরে ঢুকে বিছানার নিচে রাখা গরু কেনার জন্য জমানো এক লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আহতদের শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে থানায় গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বাদী ঝিনাইগাতী সি.আর আমলী আদালতে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে বিবাদী আব্দুল আল মামুন বিপ্লবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাহাদের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
Developed by Md Anwar Hossen
©দৈনিক প্রথম সংবাদ ২০২৫