Home » বেপরোয়া ‘কাঁকড়া’ ট্রাক্টর: আতঙ্কে বামনডাঙ্গাবাসী, নির্বিকার পুলিশ

বেপরোয়া ‘কাঁকড়া’ ট্রাক্টর: আতঙ্কে বামনডাঙ্গাবাসী, নির্বিকার পুলিশ

 

​সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায় বেপরোয়া গতিতে চলছে অবৈধ ট্রাক্টর- কাঁকড়া, যার ফলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বামনডাঙ্গার শিববাড়ি মোড় থেকে বন্দর চৌরাস্তা হয়ে সুইচগেট গাহমারি পর্যন্ত ব্যস্ততম এই সড়কে ট্রাক্টরের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না, উল্টো ‘অনৈতিক লেনদেনে’র মাধ্যমে চলছে এই মরণঘাতী যানবাহন।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, শিববাড়ি মোড় থেকে গাহমারি পর্যন্ত রাস্তাটি অত্যন্ত জনবহুল। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ছোট যানবাহন চলাচল করে। অথচ দিন-রাত সমানতালে এই পথে মাটি ও বালুভর্তি ট্রাক্টরগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। চালকদের অধিকাংশেরই নেই কোনো বৈধ লাইসেন্স, এমনকি অনেকের বয়সও ১৮ বছরের নিচে। তাদের গতির প্রতিযোগিতায় সাধারণ পথচারীরা সবসময় প্রাণভয়ে থাকেন।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে বারবার মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু ব্যক্তির সাথে ট্রাক্টর মালিকদের ‘মাসোহারা’ বা অনৈতিক লেনদেন রয়েছে। যার ফলে প্রকাশ্য দিবালোকে অবৈধ এই যানগুলো দাপিয়ে বেড়ালেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা এখন দায় হয়ে পড়েছে। কাঁকড়া ট্রাক্টরগুলো যেভাবে চলে, মনে হয় যেন রাস্তাটা তাদের একার। ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে, কিন্তু পুলিশকে বলে কোনো লাভ হচ্ছে না।”
বাদল মিয়া নামের ​আরেকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে শান্তিতে থাকতে পারি না। পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র কাছেই, কিন্তু তারা এসব দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। আমরা কি তবে কোনো বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষা করছি?”

​এই বিষয়ে জানতে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ ও বেপরোয়া ট্রাক্টর চলাচল বন্ধে এবং সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *