
(নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সীমান্তবর্তী তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়।
উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের বার্নিলঘাট এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর তুলছিল। এর ফলে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছিল এবং আশপাশের ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ছিল। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ১২টি পাথরবোঝাই নৌকা এবং ৯টি মেশিন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত এসব সরঞ্জাম নদীতেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ইউএনও ইমরানুজ্জামান বলেন, “অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান চলমান থাকবে। যেখানেই এমন কার্যক্রমের সন্ধান পাওয়া যাবে, সেখানেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, তিস্তা নদীর প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা-২০১২-এর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। একই সাথে, এ ধরনের কাজ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির, ৫১ বিজিবির বার্নিলঘাট বিওপি ক্যাম্পের সুবেদার রফিকুল ইসলাম, এবং ডিমলা থানা পুলিশের একটি দল।
তিস্তাপাড়ের ভাঙনকবলিত মানুষজন প্রশাসনের এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর সালাম বলেন, “অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের কারণে আমরা চরম ভোগান্তিতে ছিলাম। তারা শুধু নদীর ক্ষতিই নয়, আমাদের ফসলি জমিও নষ্ট করছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি শুনতে হয়।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সোলেমান মিয়া জানান, “প্রতিদিন তিস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে এমন অভিযান চালানো হলে আমরা রক্ষা পাব। বালু ও পাথর উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কোটি কোটি টাকা খরচ করেও কোনো ফল পাচ্ছে না। এই অবৈধ সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
এর আগে ‘দৈনিক কালবেলা’-তে “তিস্তাতীরে কান্না, সিন্ডিকেটের উৎসব” এবং ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’-তে “তিস্তায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে ভাঙন বেড়েছে” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই সমস্যা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এর পর থেকেই স্থানীয়ভাবে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরদার হয়।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে প্রভাবশালী চক্র আর নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর তুলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে পারবে না। এতে তিস্তা নদীর সম্পদ সংরক্ষিত হবে, ভাঙন কমবে, এবং তিস্তাপাড়ের পরিবারগুলোও সুরক্ষিত থাকবে।
