Home » ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে উন্নত নিরাপাদ ও সমৃদ্ধ শেরপুর গড়বো: হাফেজ রাশেদুল ইসলাম

ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে উন্নত নিরাপাদ ও সমৃদ্ধ শেরপুর গড়বো: হাফেজ রাশেদুল ইসলাম

 

শেরপুর প্রতিনিধি:

হাফেজ মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ একজন ইসলামী চিন্তাবিদ, সমাজসেবক, উদ্যোক্তা ও রাজনীতিবিদ। তিনি শেরপুর-১ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং বর্তমানে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ধানমন্ডি থানার আমীর ও মজলিসে শূরা সদস্য।

১৯৯০ সালে শেরপুর সদরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে পারিবারিক পরিবেশে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। কুরআন হিফজ, দাখিল ও আলিম সম্পন্ন করার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও এমএসসি এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং ১ সন্তানের জনক।

২০০৩ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দিয়ে ছাত্ররাজনীতি শুরু করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় সভাপতি সহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে রুকন শপথ নেন।

পেশাগত জীবনে স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির এক্সিকিউটিভডিরেক্টর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীতে প্রকাশনা সংস্থা, হজ্জ-উমরাহ এজেন্সি, হেলথ কেয়ার, নিউজ পোর্টাল, এগ্রো খামার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করছেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি অসংখ্য মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হলেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন আন্দোলন, আওয়ামী লগি-বৈঠা তাণ্ডব বিরোধী আন্দোলন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলন, শাহবাগ বিরোধী আন্দোলন, ভোটাধিকারের দাবি ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ নানা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি ঢাকার অন্যতম সংগঠক হিসেবে নেতৃত্ব দেন, গুম ও নির্যাতনের শিকার হন এবং গণঅভ্যুত্থানের পর মুক্তি পান।

তিনি শেরপুর ফোরাম ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ত্রাণ ও উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত আছেন। মাদক ও ইভটিজিং বিরোধী কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ, রাস্তা সংস্কার, শিক্ষাবৃত্তি, চিকিৎসা সহায়তা ও ক্রীড়া-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

হাফেজ মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ একজন দৃঢ়চেতা, সংগ্রামী ও নীতিবান নেতা। যিনি শেরপুর নিয়ে শহীদ মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ন্যায়ের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে জনগণের সমর্থন ও ভোট নিয়ে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ শেরপুর গড়ায় প্রত্যয়ী।

উন্নত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ শেরপুর সদর হাফেজ মোঃ রাশেদুল ইসলামের ভিশন

ভিশন বার্তা:

” সবার জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবায় উন্নত, নিরাপদ পরিবেশ ও জনবান্ধব, মানবিক এবং আত্মনির্ভর শেরপুর সদর গড়ে তোলা।”

১. সবার জন্য দুর্নীতিমুক্ত বৈষম্যহীন সুশাসন ও কার্যকর সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব

দুর্নীতি দমন, স্বচ্ছ প্রশাসন, আধুনিক ডিজিটাল সেবা, এলাকাভিত্তিক তথ্যসেবা কেন্দ্র, আইনের শাসন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, সংসদে সঠিক জনপ্রতিনিধিত্ব ও নীতি প্রণয়ন, শেরপুরকে একটি টেক, ইন্ড্রাস্ট্রি ও বিজনেস ফোকাসড জেলা সদরে রূপান্তর, বার্ষিক ‘পাবলিক রিপোর্ট কার্ড’ প্রকাশ।

২. সবার জন্য নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা

সন্ত্রাস-মাদক-চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমনে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি, টেক কমিউনিটি প্যাট্রোলিং, নারী-শিশু নিরাপত্তা, বাকস্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। অসহায়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, সিনিয়র সিটিজেন, নারী, শিশু, সংখ্যালঘু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য অগ্রাধিকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ। আশ্রয়হীন ও পথশিশুদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ।

৩. সবার জন্য উন্নত অবকাঠামো, সংযোগ ও নাগরিক সুবিধার সবুজ শহর

শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ককে এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করা। শেরপুরকে জাতীয় রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্তকরণ। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেট, স্যানিটেশন ও নগর সুবিধা। রাস্তা পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও পাকাকরণ। প্রয়োজনীয় নতুন সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ। বাজার সংযোগ রাস্তায় অগ্রাধিকার। শহর বাইপাস সড়ক এবং বন্যাপ্রবণ এলাকায় সাবমারসিবল রোড তৈরি। চর এলাকাগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্তকরণ। স্থানীয় হাটবাজার আধুনিকায়ন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ভবনসমূহের সংস্কার ও সম্প্রসারণ। ‘মডেল গ্রাম’ প্রকল্প। শেরপুর পৌরসভাকে পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর। নদী ভাঙন রোধে ব্রহ্মপুত্র ও মৃগী নদীতে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং নদী শাসনের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ। নদী ড্রেজিং, পানি নিষ্কাশন, খাল উদ্ধার ও খনন কার্যক্রম চালানো। আধুনিক দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং গৃহহীন পরিবারের দ্রুত পুনর্বাসন। প্লাস্টিক বর্জ্য নিষিদ্ধ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, মশক নিধনে কর্মসূচি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

পবিত্র রমজানে ফুডপ্যাক উপহার

৪. সবার জন্য শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন

মানসম্মত শিক্ষা ও ১০০% সাক্ষরতা, শিক্ষা ব্যয় হ্রাস, ডিজিটাল সুবিধাযুক্ত স্মার্ট স্কুল, তরুণদের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ (আইটি, ডিজাইন, স্থাপত্য), প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজন দক্ষ সদস্য, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট প্রোগ্রাম’ ও উচ্চশিক্ষা সহায়তা, বৃত্তি তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র। নারীশিক্ষা বিস্তার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও মেয়েদের উচ্চশিক্ষা।

৫. সবার জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি শিল্পাঞ্চল এবং একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা। হাইটেক পার্ক, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ ও স্টার্টআপ ফান্ড

তৈরি। চাঁদাবাজিমুক্ত স্বাধীন ব্যবসার পরিবেশ ও বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ। ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ (ট্রেড লাইসেন্স ও অনুমতিপত্র)। কৃষকদের জন্য উন্নত বীজ, চারা ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ; বীজ নার্সারি, কৃষি তথ্যকেন্দ্র, কৃষি ক্লিনিক ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি, কৃষি মেশিন ও সরঞ্জাম ভাড়া কেন্দ্র, সেচযন্ত্র ও সোলার পাম্প ব্যবহারে প্রণোদনা, কৃষি পরিবহন ভর্তুকি এবং সেচ ব্যবস্থা উন্নত করা। সরকারি ক্রয়কেন্দ্র, হিমাগার ও সংরক্ষণাগার স্থাপন। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। চরাঞ্চল ও সদরে কৃষিভিত্তিক বিকল্প কর্মসংস্থান। নাকুগাঁও স্থলবন্দর কার্যকর করে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শিল্পাঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কুটির শিল্প ও হস্তশিল্প (কাঁসা, বাঁশসহ ঐতিহ্যবাহী শিল্প) রক্ষায় প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও বাজারজাতকরণ সহায়তা প্রদান করা। শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার মনিটরিং, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও হস্তশিল্পীদের সহায়তা কর্মসূচি, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ ও প্রশিক্ষণ।

৬. সবার জন্য সহজ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা

জেলা হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও শয্যা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহকে আধুনিকায়ন, ২৪/৭ জরুরি বিভাগ চালু, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ। পর্যাপ্ত নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র/কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, বিনামূল্যে মাতৃ ও শিশু সেবা। দুর্গম চর ও গ্রামীণ এলাকার জনগণের জন্য ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ইউনিট চালু এবং ‘গ্রাম ক্লিনিক টু স্পেশালিস্ট’ রেফারেল ব্যবস্থা চালু। মাতৃত্বকালীন সেবা ও শিশুদের পুষ্টি কর্মসূচি। শতভাগ স্যানিটেশন এবং আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ। মশক নিধনে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো। একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।

৭. সবার জন্য সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পর্যটন

শেরপুরের ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে সমন্বিত ট্যুরিস্ট জোন গড়ে তোলা এবং শেরপুরের দর্শনীয় স্থানগুলো প্রচারের মাধ্যমে নতুন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। শের আলী গাজী ও শাহ কামাল (রঃ) এর মাজারসহ সব ঐতিহাসিক স্থান সংস্কার। পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো, হোটেল-রেস্ট হাউস, তথ্যকেন্দ্র, যাতায়াত সুবিধা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। “তুলশীমালা” সুগন্ধি চালকে বিশ্বজুড়ে ব্র্যান্ডিং। নিয়মিত বইমেলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আয়োজন এবং শিশুদের জন্য খেলার মাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র বৃদ্ধি। সড়ক ও গ্রামের উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

“ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে উন্নত নিরাপাদ ও সমৃদ্ধ শেরপুর সদর গড়তে” ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান হাফেজ রাশেদুল ইসলামের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যেকোনো ওয়েবসাইট তৈরি করতে যোগাযোগ করুন
This is default text for notification bar