
শেরপুর প্রতিনিধি :
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে শেরপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহবুবা হকের সভাপতিত্বে শেরপুর শহরের শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্কে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের (শেরপুর সদর) কার্যালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শেরপুর-১ (সদর) আসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এতে অংশ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের সামনে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার সম্বলিত ইশতেহার পাঠ করেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো: মাহমুদুল হক মনি, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: শফিকুল ইসলাম মাসুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: ইলিয়াস উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ মাহবুবা হক। এসময় তিনি বলেন,“একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।”
এছাড়াও নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সকল প্রার্থী ও সমর্থকদের আইন ও আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
ইশতেহার পাঠকালে বিএনপির প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত শেরপুর গড়ার পাশাপাশি একজন চিকিৎসক ও নারী প্রার্থী হিসেবে নারীদের স্বাবলম্বী করা এবং চিকিৎসা সেবায় নিজেকে নিবেদিত রাখবেন তিনি। পাশাপাশি চরাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ‘‘চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত শেরপুর গড়ার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরে ইনসাফ, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। দল-মত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।’’
স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘‘চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত শেরপুর গড়ার জন্য তার কোনো নির্ধারিত লিখিত ইশতেহার নেই। তবে নির্বাচিত হলে আসনের যেকোনো সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী এমপিরা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় উন্নয়ন করলেও তিনি পুরো আসনজুড়ে সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।’’
ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশতিয়াক মজনুন ইশতি, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়েজুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কান্তি দত্ত, র্যাবের প্রতিনিধি এস এম মনিরুজ্জামান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুধীজন ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
