
শেরপুর প্রতিনিধি:
বাঙালির ঐতিহ্য ও পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে শেরপুরে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের কুঠুরাকান্দা ভাঙ্গরবাড়ি নব জাগরণ যুব সংঘের উদ্যোগে স্থানীয় স্কুল মাঠে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
মেলায় ছিলো গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার গুড়ের জিলাপি, মুড়ি-মুড়কি, সাজ উরফা ও মিষ্টির পসরা, নারীদের জন্য হরেক রকমের কসমেটিক সামগ্রী এবং মাটির তৈরি আসবাবপত্র, ছোট বাচ্চাদের জন্য ছিল কাঠের ও প্লাস্টিকের বাহারি খেলনা।
মেলা উপলক্ষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা গান ও নাচ পরিবেশন করেন। বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে কুঠুরাকান্দা ভাঙ্গরবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো থেকে মেলায় ভিড় জমায় হাজারো নারী পুরুষ, শিশু বৃদ্ধা সহ সব বয়সী মানুষ।
এসময় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে মেলা প্রাঙ্গনে।
মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য রইচ উদ্দিন বলেন,পহেলা বৈশাখ আগেকার যখন জমিদার এবং সম্রাটদের আমলে পালন করত, তখন তারা খাজনা এবং কর আদায় করার পর এই চৈত্র মাসে তাদের টাকা-পয়সা আদায় করার পরে পহেলা বৈশাখের দিন মিষ্টি বিতরণ করত, মিষ্টি খাইত। এরপর যখন আসল ব্যবসায়ীদের হাতে, তারা প্রতি বছরের দেনা-পাওনা পরিশোধ করে হালখাতা হিসেবে পহেলা বৈশাখ পরিচিত ছিল।
এখন পরিচিত হচ্ছে শোভাযাত্রা—মানে মঙ্গল শোভাযাত্রা। কাজেই এই আগের দুঃখ-কষ্ট গ্লানি মুছে নতুনকে আমরা সাদরে গ্রহণ করব এবং প্রতি বছর এই কুঠুরাকান্দা প্রাইমারি স্কুল মাঠে প্রতি বছর আমরা মেলার আয়োজন করে থাকি। এখানে প্রতি বছরই পহেলা বৈশাখ উদযাপন হয়। আর ভবিষ্যতে যেন আমরা এর চাইতেও বেশি পরিসরে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে পারি, মানুষকে আনন্দ দিতে পারি।
বিশেষ করে বাঙালি সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন করা হয়।
মেলার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী রুবেল আহমেদ বলেন, যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝে এ ধরনের গ্রামীণ মেলা আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। আমরা গ্রামবাসী এই মেলাটি প্রতি বছর উদযাপন করে আসছি।

