
প্রথম সংবাদ ডেস্ক :
স্বল্প খরচে সুষম খাদ্য গ্রহণ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ। জনসাধারণের পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ ও সুষম খাদ্য গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ এবং স্বল্প খরচে সুস্থ জীবনযাপনের কৌশল সম্পর্কে ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় তিন দিনব্যাপী খাদ্যভিত্তিক পুষ্টিবিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বারটান) রাজশাহী বিভাগের উদ্যোগে গত ১১ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণে পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ১০ম থেকে ১৪তম গ্রেডের ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৩০ জন কৃষক-কৃষাণীসহ মোট ৬০ জন অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম খরচের পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান বৃদ্ধি করা এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করা।
প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বারটানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আঃ মজিদ মন্ডল এবং সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন। তাঁরা খাদ্যভিত্তিক পুষ্টি, সুষম খাদ্যের গুরুত্ব, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা, পুষ্টিকর খাবারের সঠিক নির্বাচন এবং স্বল্প ব্যয়ে পুষ্টির চাহিদা পূরণের বিভিন্ন বাস্তবসম্মত উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন অধিবেশনে অতিথি বক্তা হিসেবে পুঠিয়া উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের আলোকে কৃষি উৎপাদন, প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ খাদ্যের পুষ্টিগুণ, মাছের পুষ্টিমান, জনস্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ এবং পরিবারকল্যাণের সঙ্গে পুষ্টির সম্পর্ক তুলে ধরেন।
প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়—সুস্থ থাকতে যে সব সময় ব্যয়বহুল খাবার প্রয়োজন হয় না, বরং সঠিক খাদ্য নির্বাচন, পরিমিত আহার এবং বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে স্বল্প খরচেও পুষ্টির চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ভাতের পাশাপাশি ডাল, শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডিম, মাছ এবং সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া নিরাপদ পানি পান, খাবার তৈরির আগে ও পরে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না এবং খাদ্য অপচয় রোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় স্থান পায়। শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের বিশেষ পুষ্টিচাহিদা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কৃষক-কৃষাণীদের পুষ্টিবিষয়ক অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে কৃষক-কৃষাণীরা নিজেদের উৎপাদিত শাকসবজি, ডাল, ফলমূল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ব্যবহার করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পুষ্টিসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, খাদ্যভিত্তিক পুষ্টিবিষয়ক এ ধরনের প্রশিক্ষণ তৃণমূল পর্যায়ে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান বিস্তারে সহায়ক। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে পুষ্টি, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এর ফলে পরিবার পর্যায়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, অপুষ্টির ঝুঁকি কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বারটানের এ উদ্যোগের মাধ্যমে পুঠিয়া উপজেলায় পুষ্টিসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বল্প ব্যয়ে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
