
প্রথম সংবাদ ডেস্ক :
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে শিশুদের সঠিক ধর্মীয় ও নৈতিক সুশিক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস-এর চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
রোববার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বায়তুল মোকাররমস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বোর্ড অব গভর্নরস-এর ২৩৭তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বোর্ড অব গভর্নরসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তা বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগের তাগিদ দেন ধর্মমন্ত্রী।
ধর্মমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী ভাবনায় শিশুদের সকালবেলায় পবিত্র কোরআন শিক্ষা, আদব-কায়দা, নৈতিকতা এবং ধর্মীয় অনুভূতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই মসজিদ ভিত্তিক মক্তব শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল। তবে বিগত ১৭ বছরে এই শিক্ষাক্রমকে ব্যাপকভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। মক্তব শিক্ষাকে যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব থেকে উদ্ধার করে পুনরায় প্রকৃত ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন তিনি।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যাতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সঠিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং মক্তব শিক্ষা কার্যক্রম থেকে রাজনৈতিক প্রভাব দূর করা যায়, সে বিষয়ে একটি বিশেষ সংস্কার কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। এ সময় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও হাফেজদের নির্ভুল কোরআন শিক্ষাদানের প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো ভুল ছাড়া ৩০ পারা কোরআন হিফজ করানো ও শিক্ষার এই অনন্য অবদানকে বড় মন নিয়ে মূল্যায়ন করা এবং তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাগণ তাঁদের চাকরিজীবনের প্রারম্ভিক পর্যায় থেকে দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করে বড় পদে উন্নীত হয়েছেন। ফলে অভিজ্ঞ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের যৌথ সমন্বয় ঘটিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের জন্য বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব।
সভায় মক্তব শিক্ষা কার্যক্রম দলীয় প্রভাবমুক্ত করা, নিজ নিজ এলাকায় তদারকি জোরদার করা এবং প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া রূপকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেন, বর্তমান সরকার চলতি মেয়াদে দেশব্যাপী ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্যোগ আরও বেগবান হবে।
সভায় কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস-এর সদস্য সচিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীসহ গভর্নরবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন।
