Home » সুন্দরগঞ্জে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ব্যবসায়ী পলাতক

সুন্দরগঞ্জে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ব্যবসায়ী পলাতক

 

শহীদুল ইসলাম শহীদ,​সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নাস্তার প্রলোভন দেখিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী সৈয়দ আলী ওরফে কারেন্ট সৈয়দের (৫২) বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা।
​অভিযুক্ত সৈয়দ আলী উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পূর্ব বেলকা গ্রামের মৃত ইয়াসিন আলীর ছেলে। তিনি বেলকা বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
​মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্ত সৈয়দ আলী প্রতিবেশী ওই শিশুটিকে আঙিনা পরিষ্কার করে দেওয়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন। সরল বিশ্বাসে পরিবার শিশুটিকে সেখানে পাঠায়। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে নাস্তা খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সৈয়দ আলী শিশুটিকে ঘরের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই রাতেই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সৈয়দ আলী পলাতক রয়েছেন।
​পলাতক অবস্থায় মুঠোফোনে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে সৈয়দ আলী বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এটি আমার সামাজিক ও ব্যবসায়িক অবস্থান নষ্ট করার একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই।” তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
​এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় জড়িয়ে প্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বেলকা ইউনিয়ন শাখার আমির একেএম নাজমুল হুদা ও সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াহেদুজ্জামান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “সৈয়দ আলী জামায়াতের কোনো পর্যায়ের কর্মী বা নেতা নন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংগঠনের নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।” তারা প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “শিশু ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তাকে ধরতে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *