
অনলাইন ডেস্ক :
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও সৃষ্টিশীলতার চর্চাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও বিস্তৃত ও প্রাণবন্ত করে তোলার লক্ষ্যে ময়মনসিংহে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার জেলা পর্যায়ের আয়োজনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন, ময়মনসিংহের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।
‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের জেলা পর্যায়ে নিজেদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতা ৬, ৭, ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর বিভিন্ন দিনে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতায় নজরুলসংগীত, চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি, একক অভিনয়, নৃত্য, নজরুলের ইসলামি সংগীত/গজল, রচনা, হামদ ও নাত এবং নির্ধারিত বক্তৃতা/উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে।
আয়োজকরা জানান, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতিভা। তাঁর সাহিত্যকর্মে যেমন বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা রয়েছে, তেমনি তাঁর সংগীত ও সৃষ্টিশীলতার প্রতিটি ক্ষেত্রে ফুটে উঠেছে মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং সমাজের বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা। নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের এই বহুমাত্রিক সৃষ্টিকর্মকে আরও পরিচিত ও চর্চার মধ্যে নিয়ে আসাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, একক অভিনয় ও চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি রচনা ও বক্তৃতার মাধ্যমে নজরুলের জীবন, সাহিত্য, দর্শন এবং অসাম্প্রদায়িক মানবিক চেতনা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস, উপস্থাপনা দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উপজেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় সাংস্কৃতিক প্রতিভাগুলো সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যেই এ আয়োজনের গুরুত্ব সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে নজরুলের সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সৃজনশীলতার চেতনাকে ধারণ করে একটি মুক্তমন ও সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম গড়ে তুলতেও এ আয়োজন ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও তরুণদের সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান শিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, সংগীতশিল্পী, অভিনয়শিল্পী ও লেখক তৈরিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার জেলা পর্যায়ের এ আয়োজন ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনগুলোতে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।
সর্বোপরি, কাজী নজরুল ইসলামের অমর সৃষ্টি ও মানবিক দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করা এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে ‘দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
