
অনলাইন ডেস্ক :
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারোবাড়ী বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গতকলা বুধবার পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ও ভেজাল কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিয়মিত তদারকির ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে আঠারোবাড়ী বাজারের দুটি তেল মিলের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সরিষার তেল উৎপাদন এবং তেলের সঙ্গে চিটাগুড় ও পামঅয়েল মিশিয়ে ভেজাল তৈরি ও বাজারজাত করার দায়ে মেসার্স সেলিম ওয়েল মিলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই ধরনের অপরাধে মেসার্স আঠারবাড়ী ওয়েল মিলকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে পরিচালিত তল্লাশিতে দেখা যায়, উৎপাদনস্থলের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। তেল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে মানসম্মত কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি খাদ্যপণ্যে ভেজাল মিশ্রণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
এছাড়া অভিযানে একটি সারের দোকানে অবৈধভাবে ডিজেল মজুত ও বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মেসার্স আবুল বাশার সার বিক্রেতাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, অনুমোদন ছাড়া জ্বালানি মজুত ও বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান বলেন, সরিষার তেলের সঙ্গে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে বাজারজাত করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আমরা তল্লাশিতে ভেজাল তৈরির সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছি। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বাজারে ভেজাল ও অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক খাদ্যপণ্য বা অনিয়মের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, জনসচেতনতা ও নিয়মিত তদারকি মিলেই বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাজারে ভেজালবিরোধী এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে ব্যবসায়ীরা আইন মেনে চলতে বাধ্য হবেন এবং ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্যপণ্য পেতে পারবেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালিত হবে।

