Home » শেরপুরে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সম্মানে ইফতার মাহফিল

শেরপুরে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সম্মানে ইফতার মাহফিল

 

শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুরে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সম্মানে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ মার্চ শুক্রবার শহরের খরমপুরস্থ নির্ঝর কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শেরপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন শেরপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক মোঃ মামুনুর রহমানের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর -১ ( সদর) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মো: রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।

এসময় তিনি বলেন, আমরা এখন যে নতুন বাংলাদেশের জন্য কাজ করছি, এভাবে যদি আমরা চিন্তা করি যে আমরা হয়ত একটি পরিবেশ তৈরি করেছি কিন্তু এখনো এই পরিবেশকে সাসটেইন করার জন্য, মজবুত করার জন্য যা যা ভূমিকা দরকার এখনো পর্যন্ত তার মৌলিক জায়গাগুলো বড় ধরণের গ্যাপের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
​যেমন আমরা চেয়েছিলাম জুলাই চেতনাকে সর্বকিছুর উপর গুরুত্ব দিয়ে আমাদের যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেই সরকার পথ চলবে, এগোবে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত এ ধরণের কোন বাস্তব ভিত্তিক পদক্ষেপ দেখতে পারছি না। বর্তমান সরকার তাদের জুলাই সংস্কার প্রস্তাব যখন ঐক্যমত্য কমিশনে আলোচনা হচ্ছিল, সেই সময়কার আলোচনার ভিত্তিতে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে এই সংস্কার প্রস্তাব সংবিধানে সন্নিবেশিত হবে মর্মে জানা সত্ত্বেও, সকল মানুষের ম্যান্ডেট থাকা সত্ত্বেও পদক্ষেপটাকে গুরুত্ব না দিয়ে যেটা যেটা তাদের পছন্দের সেই বিষয়টাকে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

এমপি রাশেদুল ইসলাম আরো বলেন, গতকাল যে সংসদ শুরু হয়েছে সেই সংসদে আমরা যারা বিরোধী দলের সদস্য তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের আজ্ঞাবহ প্রেসিডেন্ট ছিলেন, এখনো আছেন, সেই প্রেসিডেন্টকে আমরা বক্তব্য রাখতে দিব না মর্মে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেছি এবং সর্বশেষ আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি। ​আমরা বলতে চাই, যে আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের শত সহস্র শহীদ হয়েছে, হাজার হাজার ভাই-বোন আহত হয়েছে, সেই আন্দোলনের রেজাল্ট কখনোই জুলাই চেতনার বিপরীতে হতে পারে এটা আমরা বাস্তবায়ন হতে দিব না। এবং এই লক্ষে আমরা আজকে এই মঞ্চে এসে বসেছি। আমরা একসাথে থাকব, আগামী দিনেও যেকোন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আসলে সেই সময় আপনাদেরকে ঠিক জুলাইয়ের মত করেই পাশে পাব।

এমপি আরো বলেন, আপনারা যেভাবে, আপনাদের সন্তানরা যেভাবে আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, এই আন্দোলনের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুধুমাত্র মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই আহত হননি, শহীদ হননি, যারা মঞ্চে থাকেন, যারা বক্তব্য দেন তারাও ঠিক একইভাবে আহত হয়েছেন, কেউ গুম হয়েছেন। আমরা নিজেরাও নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, জুলুমের শিকার হয়েছি। ​সুতরাং এই জুলুম নির্যাতন করে আমাদেরকে ভয় দেখিয়ে কোন ভাবেই এই চেতনা থেকে কাউকে পিছপা করা যাবে না। যেখানে ৭০ শতাংশ বাংলাদেশি এই চেতনাকে সমুন্নত করার জন্য গণভোটে রায় দিয়েছে হ্যাঁ-র পক্ষে, সেই রায়কে উপেক্ষা করে আগামী দিনে যেন কোন শক্তি ফ্যাসিস্ট আয়োজনের উদ্যোগ নিতে না পারে, আমি সেই উদ্যোগে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

এসময় ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর ভূঁঞা।

এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন শেরপুর জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *