
মিজানুর রহমান মিলন, শেরপুর প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর -১ ( সদর) আসনে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সদর আসনে জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।
ফলাফলে দেখা যায়, শেরপুর-১ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট। এছাড়া ৬২ হাজার ৪১৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ আসনের মোট ১৪৫ টি ভোট কেন্দ্রে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর চেয়ে ৬৫ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দিয়ে ছাত্ররাজনীতি শুরু করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় সভাপতি সহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে রুকন শপথ নেন।
তিনি শেরপুর ফোরাম ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ত্রাণ ও উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত আছেন। মাদক ও ইভটিজিং বিরোধী কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ, রাস্তা সংস্কার, শিক্ষাবৃত্তি, চিকিৎসা সহায়তা ও ক্রীড়া-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি অসংখ্য মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হলেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন আন্দোলন, আওয়ামী লগি-বৈঠা তাণ্ডব বিরোধী আন্দোলন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলন, শাহবাগ বিরোধী আন্দোলন, ভোটাধিকারের দাবি ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ নানা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি ঢাকার অন্যতম সংগঠক হিসেবে নেতৃত্ব দেন, গুম ও নির্যাতনের শিকার হন এবং গণঅভ্যুত্থানের পর মুক্তি পান।

