শাহ আলী বাচ্চু জামালপুর থেকে।।
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু পতিত জমি ও বিল গুলোতে বছরের পর বছর দীর্ঘ সময় ধরে পানিতে নিমজ্জিত থাকায় পানিফল চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষকরা।
কৃষকরা বলছে, যেসব জমিতে জলাবদ্ধতার অন্য ফসল ফলানোর সম্ভব হয় না । বর্তমানে সেই সব জমিতে পানিফল চাষ করে লাভবান হচ্ছে। কম খরচে ভালো ফলন পেতে দিন দিন কৃষকদের এ পানি ফল চাষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে দেওয়ানগঞ্জের পতিত জমিতে পানিফল চাষাবাদের সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে দাবি কৃষিবিদদের।এছাড়াও পানিফল শুকিয়ে আটা তৈরি করে রুটিসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারও তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও উৎপাদিত ফল প্রক্রিয়াজাত করে গ্লুকোজ তৈরি করা যাবে বলে এক গবেষণায় জানা গেছে ।
কৃষকরা জানান, কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে তাদের হাতে নগদ অর্থ কম থাকায় অসময়ে পানিফল বিক্রি করে যে নগদ অর্থ উপার্জন করাই পানি ফল চাষীরা মহা খুশি। পানিফল এখন অর্থকরী ফসল বলা যায় , বিলের পানিতে গাছ জন্মা হওয়ার জন্য এই ফলের নাম হয়েছে পানি ফল । দেখতে অনেকটা সিংগারা মতন হওয়ায় অনেকেই সিংগারা ফল বলেও জানে । গাঢ় সবুজ ও খয়েরি রংয়ের হয়ে থাকে। এ ফলটি খোসা ছাড়িয়ে খেতে হয়। ভেতরের শাঁস নারিকেলের মতন মতো সাদা কিন্তু নরম মিষ্টি না হলেও খেতে খুবই সুস্বাদু এবং কোমল ও ঠান্ডা। এলাকার সাধারণ মানুষ ‘পানিফল সিংগারা ’ সিদ্ধ করে সকালের নাস্তা হিসাবে অনেকেই খায়। পাকা পানি ফল শিঙাড়া সবজি হিসাবেও তরকারিতে ব্যবহৃত হয়। রোদে শুকিয়ে ভেলেন্ডার অথবা ঢেঁকিতে পানিফলের গুঁড়া করে আটা তৈরি করে রুটি তৈয়ার করে খাওয়া হয়।
জানা গেছে, জামালপুর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ জলাশয় ও নিচু জমির পানির উপর সবুজ পাতায় ছেয়ে আছে পানিফলের গাছ। কৃষকেরা পানিতে নেমে পরিপক্ব পানিফল সংগ্রহ করছেন। পরে এসব ফল ঝুড়ি ও বস্তায় করে স্থানীয় বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হয়। চাহিদা বেশি থাকলে ব্যবসায়ীর ক্ষেত থেকে ক্রয় করে থাকে।
কৃষকেরা জানান, আগে দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকা জমিগুলো তেমন কোনো ফসল হয়তো না। পানিফল চাষ শুরু করার পর সেই জমি থেকেই বাড়তি আয় হচ্ছে। চারা রোপণ ও পরিচর্যায় তুলনামূলক কম খরচ হওয়ায় এ চাষে লাভের সম্ভাবনাও ভালো।
কৃষক শহিদুল জানায়, পূর্বে এই জমি পতিত পড়ে থাকতো। এখন পানিফল চাষ করে ভারতি আয় হচ্ছে । সমস্ত খরচা বাদ দিয়েও লাভ থাকে। বাজারে দাম ভালো থাকলে এ চাষ করে সংসার চালানো সম্ভব।’
পানিফল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। কৃষকের পাশাপাশি শ্রমিকরা ফল সংগ্রহ, বাছাই ও পরিবহণ করে ভারতি আয় হচ্ছে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া জানান, যেসব জমি দীর্ঘ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে, সেসব জমিতে পানিফল চাষের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষকদের দাবি, উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, সহজ শর্তে ঋণ, চাষাবাদে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং উৎপাদিত পানিফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ চাষ আরও সম্প্ররিত হবে। এছাড়াও জলমগ্ন ও অনাবাদি নিচু জমি , বিলগুলি পানিফল চাষের আওতায় আনা গেলে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় নিম্ন আয়ের লোকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
