
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে নীলফামারীর ডিমলায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ডিমলা উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম, বিএনপি নেতা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা প্রভাষক আবুল কাশেম, মো. আরিফুল ইসলাম লিটন, গোলাম রাব্বানী প্রধান, বিএনপি মহিলা দলের নেত্রী অধ্যাপিকা সেসারা সুলতানা, জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা মজিবুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমির কাজী মাওলানা রোকনুজ্জামান বকুল, ডিমলা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু তালেব এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু উৎপল কান্তি সিংহসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি-সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পূজামণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মণ্ডপ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার এবং যেকোনো ধরনের গুজব বা অপতৎপরতা প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ মণ্ডপের নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও অগ্নিনিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের চলাচল এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। পাশাপাশি পূজার সময় কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত প্রশাসন ও পুলিশকে জানানোর বিষয়ে তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যেরও প্রতীক। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে গুজব ছড়িয়ে কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
