Home » নালিতাবাড়ীর কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল ট্রেনিং সেন্টার বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার মালামাল

নালিতাবাড়ীর কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল ট্রেনিং সেন্টার বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার মালামাল

আমিরুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি :

শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরশহরে গত ২০১২ সালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহিলা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল কাম ট্রেনিং সেন্টার। ৬ তলা ভবনটির র্নিমান কাজ শেষ হয় ২০১৫ সালে। বর্তমানে এর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে প্রায় কোটি টাকার জিনিসপত্র।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে কর্মজীবী নারীদের আবাসন নিশ্চিত করতে এবং পিছিয়ে পড়া দরিদ্র ও স্বল্প শিক্ষিত নারীদের মানোন্নয়নে ৪ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ভবনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। নার্সারি ও হর্টিকালচার, কৃষি যন্ত্রপাতি মেরামতকরণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ইলেকট্রনিক্স অ্যাসেম্বলিং টেকনিশিয়ান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সুইং অপারেটর, ইলেকট্রিশিয়ান ও হাউজ ওয়্যারিং মিলে ৬টি ট্রেডে বেকার নারীদের নিয়ে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু, এছাড়া কম্পিউটার ও বিউটিফিকেশন নামে আরো ২টি ট্রেডের যন্ত্রপাতি আনা হলেও প্রশিক্ষক নিয়োগ না থাকায় তা চালু হওয়ার আগেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ৩ মাস মেয়াদি প্রতিটি ট্রেডে প্রশিক্ষণার্থী ছিল ১০ জন করে। প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ২০ জন নারী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে অনেকে নানা কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন। গত ২০১৯ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষে নতুন প্রকল্প না থাকায় নিয়োগপ্রাপ্ত উপ-পরিচালককে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। এরপর থেকে হোস্টেল কাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি না পাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের আওতায় কর্মরত ১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতাও।

বর্তমানে ৬ তলা বিশিষ্ট আধুনিক এ হোস্টেল ভবন ছাড়াও বিভিন্ন ট্রেডের মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও ফার্নিচার নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, এক সময় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণকারীদের পদচারণায় কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল কাম ট্রেনিং সেন্টারটি মুখরিত থাকলেও এখন সেখানে ধুলাবালু আর জরাজীর্ণতার ছাপ দেখা য়ায়।

দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় প্রশিক্ষণ ট্রেডের জন্য কেনা কোটি টাকার মূল্যবান সরঞ্জামাদি ও আসবাব নষ্ট হওয়ার পথে। ভেতরে তৈরি হয়েছে ভূতুড়ে পরিবেশ। তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে ভবনটি। ভবনের প্রতিটি কক্ষে জমেছে ময়লা। কোনো কোনো কক্ষের জানালা খোলা থাকায় প্রশিক্ষণ ট্রেডের যন্ত্রপাতিতে বাসা বেঁধেছে কবুতর ও চড়ুই পাখি। আসবাব, আবাসনের খাট, বিছানাপত্র ধুলাবালু জমে নষ্ট হয়ে হচ্ছে। ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে কক্ষের চেয়ে ব্যালকনি উঁচু হওয়াতে কক্ষের ভেতর ও বাইরের অংশের ওয়ালগুলো ড্যাম হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সামেদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, র্দীঘদিন যাবত ট্রেনিং সেন্টারটি তালাবন্ধ থাকায় ভিতরে সাপ, বিচ্ছু ও শিয়ালের বাড়িতে পরিনত হয়েছে। পূনরায় সেন্টারটি চালু করা হলে উপজেলাবাসী উপকৃত হবে।

নালিতাবাড়ী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের জানায়, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে ট্রেনিং সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ীর ইউএনও রিজওয়ানা আফরিন সাংবাদিকদের বলেন, কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল কাম ট্রেনিং সেন্টারটি পূনরায় চালু করার বিষয়ে উর্ধতন কতৃপর্ক্ষের সাথে কথা বলেছি। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে সেন্টারটি চালু করা যাবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *