Home » ময়মনসিংহে শব্দদূষণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহে শব্দদূষণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

‘আর নয় শব্দদূষণ, চাই সুস্থ জীবন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে শব্দদূষণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে পেশাদার গাড়িচালক, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অংশগ্রহণে এ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং যানবাহনে অপ্রয়োজনীয় হর্নের ব্যবহার বন্ধে জনগণকে উৎসাহিত করাই ছিল কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা শব্দদূষণ বন্ধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেন এবং চালক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

র‍্যালি শেষে পেশাদার গাড়িচালক, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে যানবাহনে শব্দদূষণ প্রতিরোধ এবং অযথা হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বানসংবলিত সচেতনতামূলক স্টিকার লাগানো হয়। এ সময় চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, প্রয়োজন ছাড়া হর্ন না বাজানো এবং পথচারীসহ অন্যান্য যানবাহনের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়ে সচেতন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাসচালকদের জন্য স্থাপিত সমন্বিত চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়। পেশাদার গাড়িচালকদের সুস্থ দৃষ্টিশক্তি সড়ক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় সংশ্লিষ্টরা বলেন, একজন চালকের চোখের দৃষ্টিশক্তির সামান্য সমস্যাও সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই পেশাদার চালকদের নিয়মিত স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি শারীরিকভাবে সুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

কর্মসূচির আরেকটি অংশ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে এ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালক, পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও সাধারণ পথচারী সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

শব্দদূষণ প্রতিরোধে পেশাজীবী গাড়িচালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে অযথা হর্ন ব্যবহার না করা, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নিরাপদে গাড়ি চালানো এবং শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে চালকদের অবহিত করা হয়।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক সেশন পরিচালনা করা হয়। চালকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শব্দদূষণ শুধু পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়, এটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত শব্দের কারণে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘসময় অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকলে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া শব্দদূষণ মানুষের মানসিক শান্তি নষ্ট করে। অতিরিক্ত শব্দের কারণে উৎকণ্ঠা, বিরক্তি ও খিটখিটে মেজাজ তৈরি হতে পারে। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার ফলে দীর্ঘমেয়াদে ক্লান্তি ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকা, মাইক ও ডিজে পার্টির শব্দ সহনীয় মাত্রায় রাখা এবং আবাসিক এলাকায় নীরবতা বজায় রাখা জরুরি।

পাশাপাশি পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ব্যবহার না করা এবং গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়মিত পরীক্ষা করে ঠিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। চালকদের অপ্রয়োজনে হর্ন না বাজিয়ে ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শব্দদূষণ প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; চালক, পরিবহন মালিক, শ্রমিক, পথচারী ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *